তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। তনু হত্যার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-নথি যাচাই শেষে মঙ্গলবার এ নোটিশ জারি করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা রেড নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইন্টারপোলের সব রেড নোটিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না; সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে গত ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
তবে গত ৬ আগস্ট হাইকোর্টের দেয়া তার জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।
মতামত দিন